কোভিড-১৯ বা করোনা থেকে দেশের মানব সম্পদকে রক্ষায় যা দ্রুত করণীয়।

ইমরুল কায়েস ||

আমাদের বাংলাদেশ ভূখন্ডে ক্ষুদ্রতম হলেও জনসংখ্যায় আধিক্য। আমাদের এই জনবহুল দেশে করোনার মত মরণঘাতি ভাইরাস জনিত রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য খুব দ্রুত ৭১’ এর মত ওয়ার্ড থেকে ইউনিয়ন, ইউনিয়ন থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা, জেলা থেকে বিভাগ এবং বিভাগ থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত এক নির্দেশে একই গুরুত্বের সাথে কাজ করতে হবে অন্যথায় করোনার ছোবল থেকে বাচঁবনা আমি, বাচঁবেনা আমাদের নতুন প্রজন্ম, বাচঁবেনা আমাদের স্বাধীনদেশ, বুঝতে পারছেন আমাদের বিবেকবান মানুষ আমরা পরাধীন হতে যাচ্ছি করোনার কাছে। এখনও সময় আছে। উপজেলা ভিত্তিক একটি ” করোনা রোগী সনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রণ করণ ” সেল গঠনের মাধ্যমে শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, ইনশাআল্লাহ্‌।

যা উপজেলা নির্বাহীকর্তৃক পরিচালিত এবং সকল জনপ্রতিনিধি ও এলাকার সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের পৃষ্ঠপোষকতায় চলমান প্রক্রিয়া। যা পৌর ওয়ার্ড / ইউনিয়ন ওয়ার্ড থেকে উপজেলা সেল পর্যন্ত চেইন অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করবে। যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক জোরালো পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা করোনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো, ইনশাআল্লাহ্।
প্রতিটি পৌরসভার মেয়র/ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের একনিষ্ঠ কাজের মাধ্যমে আশাকরি ( ৭২ ঘন্টা) খুব দ্রুত রোগী সনাক্ত করণ ও রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

এজন্য পৌর কাউন্সিলর/ ওয়ার্ড মেম্বার সহ / জনের স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন।

স্বেচ্ছাসেবী সদস্য হওয়ার যোগ্যতা সমূহ
১। সেবাদানে আগ্রহী।
২। স্বাস্থ্যসচেতন।
৩। ন্যায়পরায়ন।
৪। শিক্ষিত ( নূন্যতম এস.এস.সি পাশ ছেলে/মেয়ে তবে ছেলেদের অগ্রাধিকার।

ওয়ার্ড কমিটির করণীয়:-
১। বিদেশ ফেরত ব্যক্তি ও বাড়ি শনাক্ত করা।
২। উক্ত পরিবারের তথ্যাদি সংগ্রহ করা।( মোবাইল নাম্বার আবশ্যিক)
৩। উক্ত ব্যক্তি কোয়ারান্টিনে আছে কী/ না ? তা পরামর্শ দেয়া ও নিশ্চিত করা।
৪। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা ও কোয়ারান্টিনে থাকার পরামর্শ দেয়া প্রয়োজনে আইনের সহযোগীতা নেয়া।
৫। নতুন ব্যক্তির করোনা ( কোভিড-১৯) এর লক্ষণ আছে কী/ না তার তথ্য সংগ্রহ করা। ( প্রয়োজনী তথ্য ছক আকারে সংগ্রহ করতে হবে এবং তা অবাধে প্রকাশ করা যাবেনা যাতে মানুষকে খারাপের দিকে প্রভাবিত না করে ও হতাশা সৃষ্টি না করে, যা দেশের জন্য অকল্যাণকর সে দিকে নজর রাখতে হবে। প্রকাশের ক্ষমতা রাখতে হবে নির্বাহী কর্তৃক পরিচালিত সেলের)
৬। তবে বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোন ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয়।
উক্ত তথ্যাদি দ্রুততার সাথে উপজেলা সেলে ও ইউপি চেয়ারম্যান এর নিকট জমা দিতে হবে। প্রয়োজনে চেয়ারম্যান সাহেব যাচাই করবে।

উপজেলা মনিটরিং সেল উক্ত তথ্যের আলোকে অধিক গুরুত্বানুসারে রোগীর নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সহযোগীতায় উপজেলায় স্থায়ী কোয়ারান্টিন বা আইসোলেসন এর ব্যবস্থা করা ( প্রয়োজনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ সমূহ অস্থায়ী ভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে)এবং সেবার মাধ্যমে সুস্থ করেতে চেষ্টা করা। আমার ব্যক্তিগত ধারনা এভাবেই খুব দ্রুত আমরা আমাদের দেশের সকল মানুষকে সুস্থ রাখতে পারব, ইনশাআল্লাহ্।

Share
  •  
  •  

Leave a Reply